![]() |
| গয়ঘর এলাকায় খাল থেকে উদ্ধার হওয়া বিএনপি নেতা শাহিন মিয়ার মরদেহ ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়—ছবি: জিএম টেলিভিশন |
নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপির এক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শাহিন মিয়া সদর উপজেলার ৩নং কামালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা প্রায় ১১টার পর থেকে শাহিন মিয়াকে আর কোথাও দেখা যাচ্ছিল না। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, বাজারসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি চললেও কোনো তথ্য না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় পড়ে যান। স্থানীয় লোকজনও খোঁজার কাজে যোগ দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে সন্ধ্যার পর উপজেলার গয়ঘর এলাকায় একটি খালের মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে তারা মরদেহটি শাহিন মিয়ার বলে শনাক্ত করেন। খবরটি মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শাহিন মিয়ার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Post a Comment